রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধে ব্যাপক হতাহত সত্ত্বেও রাশিয়ায় উত্তর কোরিয়া আরও অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উত্তর কোরিয়ার পাঠানো এই সৈন্যরা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে সম্মখসারির লড়াইয়ের দায়িত্বে রয়েছে। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল ইনটেলিজেন্স সার্ভিস (এনআইএস) বলেছে, রাশিয়ায় উত্তর কোরিয়ার মোতায়েন করা সৈন্য সংখ্যা কত, তা নির্ধারণের জন্য চেষ্টা চলছে। তবে বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার দৈনিক জুঙ্গাংয়ের এক প্রতিবেদনে অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া গত জানুয়ারি থেকে জাহাজ এবং সামরিক কার্গো বিমানে করে রাশিয়ায় অন্তত ৩ হাজার অতিরিক্ত সৈন্য পাঠিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিয়ংইয়ংয়ের পাঠানো অতিরিক্ত সৈন্যরা রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলের লড়াই ক্ষেত্রে নিয়োজিত রয়েছে। রাশিয়ার সৈন্যরা ইউক্রেনীয় সেনাদের সঙ্গে ওই অঞ্চলে লড়াই করছে।
এর আগে, ইউক্রেন যুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য গত বছর রাশিয়ায় ১১ হাজারের বেশি সৈন্য মোতায়েন করে উত্তর কোরিয়া। ইউক্রেন ও পশ্চিমা বিশেষজ্ঞরা বলছেন রাশিয়ার সৈন্যরা উত্তর কোরিয়ার অস্ত্রও ব্যবহার করেছে। যদিও উত্তর কোরিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে লড়াইয়ের জন্য সৈন্য ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের বিষয়টি কখনই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।
ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, ব্যাপক সৈন্য হতাহতের পর গত জানুয়ারিতে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সম্মুখ সারি থেকে নিজেদের সৈন্যদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে উত্তর কোরিয়া। ওই সৈন্যরা উত্তর কোরিয়ার অত্যন্ত সুশৃঙ্খল বাহিনীর বিশেষ যুদ্ধ ইউনিটের সদস্য। পূর্ব ইউরোপের উন্মুক্ত এবং সমতল যুদ্ধক্ষেত্রের বিষয়ে তাদের তেমন প্রস্তুতি নেই। যে কারণে ড্রোন হামলায় এই সৈন্যদের ব্যাপক হতাহত ঘটেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার হাজার হাজার সৈন্য নিহত অথবা আহত হয়েছেন। চলতি মাসের শুরুর দিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছিলেন, উত্তর কোরিয়ার সৈন্যরা যুদ্ধক্ষেত্রের সম্মুখ সারিতে ফিরে এসেছেন। এই বিষয়ে বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থাও প্রায় একই ধরনের ধারণা দিয়েছে।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস, রয়টার্স।