অফিস শেষে নাড়ির টানে ছুটছে মানুষ, রাজধানীতে তীব্র যানজট

আসন্ন ঈদের আগে সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস আজ। কর্মঘণ্টা শেষ হতে না হতেই নাড়ির টানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে আপন ঠিকানায় ছুটছেন নগরবাসী। ফলে তীব্র যানজটে আচ্ছন্ন রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক। ভোগান্তিতেও পড়েছেন দিনের কর্ম শেষে গন্তব্যগামী সাধারণ মানুষ।

এদিকে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সিয়াম সাধনার মাস রমজান। পরিবারের সঙ্গে ইফতারের মধ্যেই যেন সারাদিনের ক্লান্তি আর পরিশ্রমের অবসান ঘটে রোজাদার সাধারণ মানুষের। কিন্তু নগরীর অসহনীয় যানজটে ইফতারের আগে নির্ধারিত সময়ে রাজধানীর অভ্যন্তরে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে শঙ্কাও প্রকাশ করছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) বিকেলে অফিসের কর্মঘণ্টা শেষে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে ও গুগল ম্যাপের সহযোগিতায় বিভিন্ন সড়কে যানজটের এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে রাজধানীর, রাজধানীর মহাখালী, রামপুরা, হাতিরঝিল, বাড্ডা, গুলশান, বনানী, বিভিন্ন স্থানে এই যানজটের চিত্র দেখা গেছে।

এছাড়া গুগল ম্যাপের সহযোগিতায়, নীলক্ষেত নিউমার্কেট এলাকা, এল্যিফেন্ট রোড, সায়েন্স ল্যাব, কলাবাগান, ধানমন্ডি, আড়ং, কলেজগেট শিশুমেলা শ্যামলী, মৎস্য ভবন এলাকা, শাহবাগ এলাকা, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, তেজগাঁও, বিজয় সরণি, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউসহ বিভিন্ন স্থানে যানজটের চিত্র দেখা গেছে।

এছাড়াও যাত্রীদের গাড়ির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে, পায়ে হেঁটে চলাচল করতে ও কিছুু কিছু গণপরিবহনে যাত্রীর চাপও দেখা গেছে। একই সঙ্গে যানজটে গাড়ি থেকে অনেককে নেমে হেঁটে যেতেও দেখা গেছে।

রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় কথা হয় রাসেলের সঙ্গে। বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তিনি। অফিস শেষে সরাসরি নিজের বাড়ি রাজবাড়ির উদ্দেশ্যে বের হয়েছেন।

রাসেল বলেন, বাসা থেকে অফিসে আসার সময় ব্যাগ নিয়ে এসেছি। আগে থেকেই টিকিট কাটা ছিল। অফিস শেষে গাড়ি। কিন্তু যে যানজট এখনও গাড়ি এসে পৌঁছেনি। কখন আসবে সেটাও বলতে পারি না।

একই ধরনের অভিযোগ জানাচ্ছেন অফিস শেষে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে কাউন্টারে বসে থাকা একাধিক যাত্রী।

এদিকে মিরপুরগামী যাত্রী মেহেদী হাসান বলেন, রাস্তায় যে জ্যাম নতুন বাজার হতে বাড্ডা আসতেই আধা ঘণ্টা লেগেছে। সম্পূর্ণ রাস্তায় যদি এমন জ্যাম পাই তাহলে ইফতারের আগে বাসায় যেতে পারবো না।

গাড়ির জন্য বাড্ডা লিংক রোডে দাঁড়িয়ে আছেন হামিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, গাড়ির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছি। অধিকাংশ গাড়ি যানজটে পড়ে আছে। দীর্ঘক্ষণ পরপর যে গাড়িগুলো আসছে সেগুলোতেও ভিড়।

এদিকে পবিত্র রমজান মাসে সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে সকাল ৯টা থেকে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত অফিস চলবে বলো নির্দেশনা দিয়েছিল সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছিল। রমজান মাসে সাহ্‌রি ও ইফতারের সময় বিবেচনায় এই সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছিল।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, ব্যাংক, বিমা ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ডাক, রেলওয়ে, হাসপাতাল ও রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা এবং অন্যান্য জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জনস্বার্থ বিবেচনা করে তাদের নিজস্ব আইন বা বিধি অনুযায়ী অফিস সময় নির্ধারণ করবে। এছাড়া সুপ্রিম কোর্ট ও তার আওতাধীন সব আদালতের সময়সূচি সুপ্রিম কোর্ট নির্ধারণ করবে।