#নিশ্চয়তা যাচাইয়ে শনিবার
নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে বাকি ২৩৯ কোটি ডলার ঋণের ছাড় পাওয়ার বিষয়ে নিশ্চয়তা যাচাই করতে শনিবার ঢাকায় আসছে আইএমএফের একটি প্রতিনিধি দল। তারা সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন অর্থনৈতিক শর্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে, এর মধ্যে— ভর্তুকি কমানো, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, মুদ্রার বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করা এবং রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করবে।
২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশের জন্য আইএমএফ ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের প্রথম কিস্তি ছাড় শুরু করে। এখন পর্যন্ত তিনটি কিস্তিতে মোট ২৩১ কোটি ডলার বাংলাদেশ পেয়েছে, এবং বাকি দুই কিস্তির ২৩৯ কোটি ডলার সরকারের জন্য বাজেট সহায়তা হিসেবে একসঙ্গে পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা আগামী জুনে পাওয়া যেতে পারে। তবে, এই ঋণ ছাড়ের জন্য সরকারকে আইএমএফের বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে।
আইএমএফ প্রতিনিধি দল ৬ এপ্রিল থেকে সরকারি বিভিন্ন দফতরের সঙ্গে বৈঠক শুরু করবে, যা টানা দুই সপ্তাহ চলবে। বৈঠকে মুদ্রা বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করার সিদ্ধান্তসহ অন্যান্য শর্তের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হবে। তবে, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন— এই মুহূর্তে শর্তগুলো পূরণ করা সরকারের জন্য সহজ হবে না।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং ভর্তুকি তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টি করবে, বিশেষ করে মূল্যস্ফীতির চলমান উচ্চতায় এটি আরো চাপ বাড়াতে পারে। অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ফলে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হতে পারে, যা জনগণের জন্য বিরাট সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।
আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী, সরকারকে অতিরিক্ত ৫৭ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে হবে এবং কর অব্যাহতির পরিমাণ কমাতে হবে। সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, কর নীতিতে প্রণোদনা দিলে তা কিছু গোষ্ঠীর জন্য উপকারী হতে পারে, কিন্তু তা যৌক্তিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
এছাড়া, বাংলাদেশ বর্তমানে ক্রলিং পেগ পদ্ধতিতে মুদ্রার বিনিময় হার নির্ধারণ করছে, যার কারণে ডলারের দাম ১২২ টাকা পর্যায়ে স্থিতিশীল রয়েছে। কিন্তু আইএমএফ চায় বাংলাদেশ এই পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে আসুক। তবে, অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এ বিষয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, হঠাৎ কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, যেমন পাকিস্তান বা শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি হতে পারে।