সকালের খাবারকে দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার বলা হয়। তবে সকালে খাওয়া সব খাবারই উপকারী নয়। কিছু খাবার সাধারণত সকালে খাওয়া হলেও অলসতা, হজমের সমস্যা বা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। গবেষণা এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে এখানে পাঁচটি খাবারের কথা উল্লেখ করা হলো যা সকালে খাওয়া ক্ষতিকর-
১. চিনিযুক্ত সিরিয়াল
স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে বাজারজাত করা অনেক সিরিয়াল চিনি এবং পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ। যদিও এগুলো প্রাথমিকভাবে শক্তি বৃদ্ধি করতে পারে। এর পরে প্রায়শই ক্র্যাশ হয়, যা আপনাকে ক্লান্ত এবং খিটখিটে করে।
পাবলিক হেলথ নিউট্রিশনে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে সকালে উচ্চ চিনি গ্রহণ দিনের শেষের দিকে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা হ্রাস করে। চিনিযুক্ত সিরিয়াল নিয়মিত গ্রহণ করলে তা স্থূলতা এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে। প্রাকৃতিক মিষ্টির জন্য ফল যোগ করে হোল গ্রেইন, মিষ্টি ছাড়া সিরিয়াল বেছে নিন।
২. স্বাদযুক্ত দই
দই স্বাস্থ্যকর সকালের নাস্তা হিসেবে বিবেচিত হয়, তবে স্বাদযুক্ত দই অস্বাস্থ্যকর হতে পারে। এই দইয়ে অতিরিক্ত চিনি এবং কৃত্রিম স্বাদ থাকে, যা ওজন বৃদ্ধি এবং রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি করে।
ব্রিটিশ জার্নাল অফ নিউট্রিশনের একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে যে, অনেক স্বাদযুক্ত দইয়ে মিষ্টির মতোই চিনি থাকে। যদিও সাধারণ টক দই প্রোটিন এবং প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ, তবে স্বাদযুক্ত দইয়ে স্বাস্থ্য উপকারিতা থাকে না।
৩. সাদা রুটি
সাদা রুটিপরিশোধিত ময়দা দিয়ে তৈরি, যার মধ্যে প্রয়োজনীয় পুষ্টি এবং ফাইবারের অভাব রয়েছে। চিনিযুক্ত জ্যাম, মার্জারিন বা চকলেট স্প্রেড ছড়িয়ে দিলে সমস্যা আরও বেড়ে যায়। এই সংমিশ্রণ রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি করে, যা খাওয়ার পরপরই আপনাকে আবার ক্ষুধার্ত করে তোলে।
দ্য ল্যানসেটে ২০১৯ সালের একটি গবেষণায় হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এবং স্বাস্থ্যকর ওজনের মাত্রা বজায় রাখতে হোল গ্রেইন ফুডের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। সাদা রুটির পরিবর্তে হোল গ্রেইন খাবার বেছে নিন।
৪. প্রক্রিয়াজাত মাংস
প্রক্রিয়াজাত মাংসের তৈরি বিভিন্ন খাবারের সকালের নাস্তায় খাওয়া হয়, তবে তাতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট, সোডিয়াম এবং প্রিজারভেটিভ বেশি থাকে। নিয়মিত প্রক্রিয়াজাত মাংস খেলে তা হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং কিছু ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) প্রক্রিয়াজাত মাংসকে মানুষের জন্য কার্সিনোজেনিক হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করেছে। দ্য ইউরোপীয় জার্নাল অফ এপিডেমিওলজিতে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রক্রিয়াজাত মাংস বেশি খেলে কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। প্রোটিন সমৃদ্ধ ব্রেকফাস্টের জন্য, ডিম, ডাল বা স্মোকড ফিশের মতো খাবার বেছে নিন
৫. ফলের রস
যদিও ফলের রস স্বাস্থ্যকর পছন্দ বলে মনে হতে পারে, তবে বেশিরভাগ প্যাকেটের জুসে অতিরিক্ত চিনি থাকে এবং পুরো ফলের মধ্যে পাওয়া ফাইবারের অভাব থাকে। নিয়মিত ফলের রস খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
ডায়াবেটিস কেয়ারের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, যারা নিয়মিত ফলের রস খান তাদের ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি পুরো ফল খাওয়া ব্যক্তিদের তুলনায় বেশি ছিল। পুরো ফল এবং শাক-সবজি দিয়ে তৈরি সকালের নাস্তায় খাওয়ার অভ্যাস করুন।