স্বাচ্ছ্যন্দে ঢাকা ছাড়ছেন মানুষ, বৃহস্পতিবার থেকে বাড়বে ভিড়

দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে এরইমধ্যে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন রাজধানীবাসী। যে কারণে বাস টার্মিনালগুলোতে বেড়েছে ঘরমুখো যাত্রীদের চাপ। তবে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদযাত্রা অনুযায়ী এখনও সেই তুলনায় চাপ কিছুই না। হয়তো আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) থেকে যাত্রীদের ভিড় বাড়বে। এদিকে কিছু পরিবহনের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়ার অভিযোগ থাকলেও ভিড় কম থাকায় স্বাচ্ছ্যন্দেই রাজধানী ছাড়ছেন বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।

বুধবার (২৬ মার্চ) সকালে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকা ঘুরে এবং যাত্রী-পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে গাবতলী বাস টার্মিনালে ঘরমুখো যাত্রীদের চাপ কিছুটা বেড়েছে। যাত্রীর চাপ সামান্য বাড়লেও কাউন্টারে ভিড় নেই। তবে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মূল সড়কের একপাশ দখল করে উত্তরবঙ্গমুখী দূরপাল্লার বাসকে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। এছাড়া বেশ কিছু মাইক্রোবাস চালকও বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রী ডাকছেন। ঈদের সেই চিরচেনা ভিড় না থাকায় যাত্রীরাও তাই ভাড়া নিয়ে দাম-দর করারও সুযোগ পাচ্ছেন।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর ৩০ অথবা ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সেই হিসেবে বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ), শুক্রবার (২৮ মার্চ) ও শনিবার (২৯ মার্চ) থেকে ভিড় বাড়বে। এদিকে, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে টিকিটের চাহিদা কিছুটা বেশি থাকায় পরিবহনগুলো গাড়ি ভাড়া করে নিজেদের ট্রিপ সংখ্যা বাড়িয়েছে। এমনকি ঈদের শেষ মুহূর্তে যাত্রীদের আরও চাপ বাড়লে সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি রাখা আছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

দুই সন্তান নিয়ে গাবতলী বাস কাউন্টারে বসে আছেন নাসিমা সুলতানা। যাবেন নওগাঁ জেলার বদলগাছী এলাকায়। তিনি জানান, স্বামী বেসরকারি একটি কোম্পানিতে চাকরি করায় ছুটি মিলবে আরও পরে। তাই ঝামেলা এড়াতে পরিবারের সদস্যরা আগে ভাগে ঢাকা ছাড়ছেন। নাসিমা সুলতানা বলেন, কথা ছিলো স্বামীসহ একসঙ্গেই যাবো। কিন্তু গতকাল জানালো সে ঈদের আগের দিন যাবে। আবার সেই সময়ে দুই বাচ্চা আর ব্যাগ নিয়ে যাওয়াটা কঠিন হয়ে যেতে পারে চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিলাম আগেই চলে যাবো।

ঝিনাইদহগামী যাত্রী রুহুল আমিন জানান, একটি ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিতে প্রশিক্ষণরত তিনি। অগ্রিম ছুটি পেয়ে ঢাকা ছাড়ছেন। তিনি বলেন, ঈদের আগে ঝামেলা থাকে। আগে ভাগে ছুটি পেয়ে বাড়ি যাচ্ছি। আল্লাহর রহমতে এখন কোনো ঝামেলা নেই।

একটি বেসরকারি কোম্পানির অডিট অফিসার ফয়সাল হোসেন একাই যাচ্ছেন পিরোজপুর। তিনি বলেন, আজও অফিস ছিল। সকালে গিয়ে সাইন করে চলে এসেছি। কাউন্টার থেকেই টিকিট কেটেছি। সমস্যা হয়নি। ভাড়াও ঠিক আছে। ৯ মাস পর বাড়ি যাচ্ছি খুবই আনন্দ লাগছে। আমার ঈদ এখনই শুরু হয়ে গেছে।

শ্যামলী পরিবহনের সিনিয়র কাউন্টার ম্যানেজার প্রভাত বলেন, যাত্রী সংখ্যা কম থাকায় কাউন্টারে তেমন ভিড় নেই। তবে গার্মেন্টস ও সরকারি ছুটির কারণে ২৭, ২৮ ও ২৯ মার্চ থেকে যাত্রী বাড়বে। যাত্রী বাড়লে আমরা গাড়ির সংখ্যাও বাড়াবো। আশা করি এবার তেমন কোনো সমস্যা হবে না।

ভাড়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের এক টাকাও ভাড়া বাড়েনি। আমরা ২০২৪ সালে সরকারের বেঁধে দেওয়া ভাড়া অনুযায়ী আদায় করছি। কিছু লোকাল পরিবহন হয়তো কিছু বেশি ভাড়া নিচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্যই হলো ঈদ উপলক্ষ্যে যার থেকে যতো নিতে পারে।

গোপালগঞ্জ পিরোজপুরগামী কমফোর্ট পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার সেন্টু মিয়া বলেন, এখন টিকিটের অভাব নেই। গাবতলী এলেই টিকিট মিলছে। অনেকেই তাদের পরিবারকে আগেভাগে বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছে। তবে আশা করছি বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই যাত্রীদের ভিড় বাড়বে।