সিনেমাকিং উৎসবের সেরা চলচ্চিত্র ‘এ ওয়ার্ল্ড অফ থ্রি জিরো’

জুলাই বিপ্লবের চেতনায় শুরু হওয়া ৫ম সিনেমাকিং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব সমাপনী হয়েছে আজ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, পুরস্কার বিতরনের মাধ্যমে।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস উদ্ভাবিত তথ্যের উপর বেলজিয়ামের চলচ্চিত্র পরিচালক আনি ক্লার্ক ও মিশেল ভ্যান ডের ভেকেন পরিচালিত ‘এ ওয়ার্ল্ড অফ থ্রি জিরোস, জিরো নেট কার্বন ইমিশন, জিরো প্রভারটি, জিরো আনএমপ্লাইমেন্ট’ উদ্বোধনী চলচ্চিত্র হিসেবে প্রদর্শিত হয়েছিলো। এই ডকুমেন্টারি টি সিনেমাকিং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সেরা ডকুমেন্টারি চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী হয়েছে।

পাকিস্তানী নারী চলচ্চিত্র নির্মাতা ও লাহোর বিশ্ববিদ্যালয়ের চলচ্চিত্র বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক কায়নাত থেবু পরিচালিত “মেড উইথ লাভ” ডকুমেন্টারি বেস্ট এশিয়ান ডকুমেন্টারি পুরস্কার বিজয়ী হয়েছে। কায়নাত থেবু উৎসবে অংশগ্রহণ করেছেন এবং তিনি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন। “মেড উইথ লাভ” উৎসবের সমাপনী চলচ্চিত্র হিসেবে প্রদর্শিত হবে।

‘রক্তের ঋণে স্বাধীনতা, জাগ্রত হোক মানবতা’ এই শ্লোগানে গত ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে শুরু হয়ে ২১ ডিসেম্বর ২০২৪ এ প্রথম পর্বে অনলাইনে ৬৮ দেশের ২৩৫ টি চলচ্চিত্র বিভিন্ন বিভাগে প্রতিযোগিতা করেছে। এছাড়াও ২৬ টি দেশের ৫২ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নির্মিত চলচ্চিত্র “ইন্সটিটিউট ফোকাস” বিভাগে প্রতিযোগিতা করেছে।

উৎসবের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়েছে ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখ হতে ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত।

সিনেমাকিং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানী চলচ্চিত্র পরিচালক কায়নাত থেবু, সিনেমাকিং লিমিটেড এর চেয়ারম্যান রিনাৎ সুলতানা, কিশলয় বিদ্যাপীঠ এর পরিচালক নাজির খান লিটন। সভাপতিত্ব করেন সিনেমাকিং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মনজুরুল ইসলাম মেঘ।

৫ম সিনেমাকিং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের একটি পোস্টার উন্মোচন করা হয়েছে। পোস্টারে তুলে ধরা হয়েছে জুলাই ৩৬ বিপ্লবের রক্তাক্ত জমিন। পোস্টারে স্থান দেয়া হয়েছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ আবু সাইদের স্কেচ। আন্দোলন চলাকালীন ভারতীয় চিত্রকর কৌশিক সরকার এই স্কেচ করে ছিলেন।

সিনেমাকিং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব এর প্রতিষ্ঠাতা ও উৎসব পরিচালক মনজুরুল ইসলাম মেঘ বলেন, ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ তৈরি করেছেন তরুণ শিক্ষার্থীরা ও গণতন্ত্রকামী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করলেও দেশি-বিদেশী নানা ষড়যন্ত্র অব্যাহত আছে। চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বহুদেশীয় সম্পর্ক স্থাপন এবং সারা বিশ্বে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে কাজ করে যাচ্ছে সিনেমাকিং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব।

মনজুরুল আরো জানান, ৫ম সিনেমাকিং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ৬৮টি দেশের চলচ্চিত্র বাছাই করা হয়েছে। আমেরিকার নিউইর্য়ক ফিল্ম একাডেমি, চায়নার বেইজিং ফিল্ম একাডেমি, রাশিয়ার মস্কো স্টেট ইনস্টিটিউট অফ কালচার, ভারতের সত্যজিৎ রায় ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট, কাতারের নর্দানইস্ট ইউনিভার্সিটি ইন কাতার, ইন্দোনেশিয়ার ইন্দোনেশিয়ান এডুকেশন ইউনির্ভাসিটিসহ ২৬টি দেশের ৫২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরা এই উৎসবে তাদের নির্মিত চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা করেছে।

মনজুরুল আরো বলেন এই উৎসবের মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণ মেধাবীদের সাথে সারা পৃথিবীর তরুণদের একটি সেতু নির্মাণ হবে, বাংলাদেশের তরুণরা জুলাই ৩৬ বিপ্লবে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখেছে। আমরা তরুণদের এই সাহসিকতা পৃথিবীর তরুণদের কাছে তুলে ধরতে চাই। আমরা বাংলাদেশের জুলাই ৩৬ বিপ্লবের গণহত্যা তুলে ধরে সারা পৃথিবীতে হানাহানি, যুদ্ধ ও নিসংসতা বন্ধ করে শান্তির আহ্বান জানাই।

মেঘ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এবং ঢাকা ফ্যাস্টিভালের সহযোগিতায় ২০২০ সাল থেকে প্রত্যেক বছর সিনেমাকিং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এইবার উৎসবের ৫ম এডিশন জুলাই ৩৬ আন্দোলনে শহীদদের উৎসর্গ করা হয়েছে।

এ উৎসবে চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা ছাড়াও ‘ফ্যাসিবাদের কবলে চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি’, ‘মানবিক পৃথিবী প্রতিষ্ঠায় চলচ্চিত্রের ভূমিকা’, ‘জুলাই ৩৬ প্রেক্ষিত কালচারাল পলিটিক্স’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। উৎসবের সমাপনী চলচ্চিত্র হিসেবে প্রদর্শিত হবে জুলাই ৩৬ গণহত্যার তথ্যচিত্র নির্ভর পূর্ণদৈর্ঘ্য ডকুমেন্টারি চলচ্চিত্র ‘নেক্সট জেনারেশন লিডার’ এর ট্রেইলার । উল্লেখ, সিনেমাকিং লিমিটেড এর উদ্যোগে “জুলাই ৩৬ বিপ্লব” শিরোনামে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান যৌথ একটি ডকুমেন্টারি নির্মান করবেন। ডকুমেন্টারিটি নির্মাণ করবেন বাংলাদেশী চলচ্চিত্র পরিচালক মনজুরুল ইসলাম মেঘ- (পরিচালক দায়িত্ব) ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালক হর্ষ নারায়ণ- ভারত (ক্রিয়েটিভ প্রযোজক দায়িত্ব) পাকিস্তানী চলচ্চিত্র পরিচালক ও চিত্র সম্পাদক কাযনাত থেবু (এডিটর দায়িত্ব) । বাংলাদেশী চলচ্চিত্র নির্মাতা মনজুরুল ইসলাম মেঘ, ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালক হর্স নারায়ণ, পাকিস্তানি চলচ্চিত্র পরিচালক কায়নাত থিবিউ এর সমন্বয়ে ত্রীদেশীয় যৌথ ভাবে প্রযোজনার মধ্য দিয়ে সারা পৃথিবীতে তুলে ধরা হবে বাংলাদেশের ২০২৪ এর জুলাই বিপ্লবের গণহত্যার ভয়াবহ নিসংসতা।